জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কৃষকদের সচেতন করতে বগুড়ার নন্দীগ্রামে এক অভিনব উদ্যোগ নিল ” বাংলাদেশ বন্ধু ফাউন্ডেশন (বন্ধু)”। ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের মাধ্যমে পটগানের সুরে সুরে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে জলবায়ু-বান্ধব ধান চাষের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার আলাইপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত এই সচেতনতামূলক পটগান অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল জলবায়ু বান্ধব ধান চাষ প্রকল্প ও পরিবেশ বান্ধব বন্ধু চুলার ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের উৎসাহী করে তোলা হয়।
বর্তমানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এখনই সবার সচেতন হতে হবে। পানি অপচয় রোধে, সেচ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন হতে হবে। বোরো মৌসুমে প্রচলিত সেচ পদ্ধতির পরিবর্তে AWD পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করতে হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু থাকবে বলে জানান বাংলাদেশ বন্ধু ফাউন্ডেশনের (বন্ধু) কর্মকর্তারা।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কৃষি ক্ষেত্রের পাশাপাশি পারিবারিক স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবেশ বান্ধব বন্ধু চুলার প্রচার চালানো হয়। এই উন্নত চুলা ব্যবহারে জ্বালানি সাশ্রয় হয় এবং ধোঁয়ার ক্ষতি থেকে রক্ষা হয়। এর ফলে এটি একদিকে যেমন পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে, তেমনি অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
উক্ত পটগান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বন্ধু ফাউন্ডেশন (বন্ধু) এর ‘কৃষি প্রোগ্রাম সংগঠক'(এপিও) আবুল বাশার ও রিয়াদ হাসান রিয়েল, পরিবেশ বান্ধব বন্ধু চুলা নন্দীগ্রামের এ্যাসিস্ট্যান্ট ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার (এডিএম) মমিনুর রশিদ, বন্ধু চুলার সেবা ডাক্তার মোছা:লাকি আক্তার। এছাড়াও ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট (এফএ) নিতাই চন্দ্র, সামিউল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মনির, সাজেদুর ইসলাম সৈকত, মমিনুল ইসলাম রকি, ওমর ফারুক, রনি আহমেদ, সেলিম রেজা, আজমীর হোসেনসহ চার শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
