ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় ২ ফ্রিল্যান্সার কে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, পালানোর সময় ৫ ডিবি পুলিশ আটক

বগুড়ার ধুনট উপজেলা থেকে দুই ফ্রিল্যান্সারকে অপহরণ করে তিন লক্ষাধিক টাকা মুক্তিপণ নিয়ে পালানোর সময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার পাঁচ সদস্যসহ ছয় জনকে আটক করে কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা ও পুলিশের একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে বীরগ্রাম এলাকা থেকে কুন্দারহাট হাইওয়ে থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বগুড়ার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার এসআই শাহিন মোহাম্মদ অনু ইসলাম, কনস্টেবল রিপন মিয়া, আবুল কালাম আজাদ, মাহবুব আলম, বাশির আলী এবং মাইক্রোবাস চালক মেহেদী হাসান।

বগুড়ার পুলিশ সুপার জানান, আরএমপির গোয়েন্দা শাখার পাঁচ সদস্য রবিবার রাতে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের দীঘরকান্দি গ্রামের রাব্বী ও জাহাঙ্গীর নামের দুই ফ্রিল্যান্সারকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ক্যাসিনো খেলার অভিযোগে আটক করে মাইক্রোবাসে উঠায়। এরপর শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর নামক স্থানে মাইক্রোবাস থামিয়ে তাদের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দরকষাকষি করে নগদ দুই লাখ টাকা এবং বিকাশ ও নগদ অ্যাপস এর মাধ্যমে আরও এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। বগুড়া জেলা পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরে শেরপুর ও শাজাহানপুর থানা এলাকায় তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি আটক করার চেষ্টা করেন। দুই থানা পুলিশ মাইক্রোবাসটি আটক করতে না পেরে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগীতায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে শাজাহানপুর থানার বীরগ্রাম এলাকায় মাইক্রোবাসটি আটক করা হয়। মাইক্রোবাসে থাকা পাঁচজন নিজেদেরকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্য পরিচয় দেন। পরে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তারা কাউকে না জানিয়ে বগুড়ায় অসৎ উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। পরে তাদেরকে আটক করা হয় এবং মুক্তিপণ হিসেবে নেওয়া নগদ দুই লাখ টাকা ও একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়।

তিনি আরও জানান, ধুনট উপজেলার বাসিন্দা ওয়াহাব নামে একজন কনস্টেবল রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত। তিনি ছুটি নিয়ে দুই দিন আগে বাড়িতে আসেন। তার তথ্য মতেই রাজশাহী থেকে আটক পাঁচজন ধুনটে আসেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধনে জানা গেছে।

পুলিশ সুপার বলেন, আটক ব্যক্তিদের হাইওয়ে পুলিশ ধুনট থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের নামে ভুক্তভোগীদের একজন বাদী হয়ে অপহরণ মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

কাহালু-নন্দীগ্রামে সফল দুর্গাপূজা, যা বললেন এমপি মোশারফ

PhotoCard Icon
Create PhotoCard

বগুড়ায় ২ ফ্রিল্যান্সার কে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, পালানোর সময় ৫ ডিবি পুলিশ আটক

আপডেটের সময় : ০৫:৫২:১৬ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

বগুড়ার ধুনট উপজেলা থেকে দুই ফ্রিল্যান্সারকে অপহরণ করে তিন লক্ষাধিক টাকা মুক্তিপণ নিয়ে পালানোর সময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার পাঁচ সদস্যসহ ছয় জনকে আটক করে কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা ও পুলিশের একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে বীরগ্রাম এলাকা থেকে কুন্দারহাট হাইওয়ে থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বগুড়ার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার এসআই শাহিন মোহাম্মদ অনু ইসলাম, কনস্টেবল রিপন মিয়া, আবুল কালাম আজাদ, মাহবুব আলম, বাশির আলী এবং মাইক্রোবাস চালক মেহেদী হাসান।

বগুড়ার পুলিশ সুপার জানান, আরএমপির গোয়েন্দা শাখার পাঁচ সদস্য রবিবার রাতে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের দীঘরকান্দি গ্রামের রাব্বী ও জাহাঙ্গীর নামের দুই ফ্রিল্যান্সারকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ক্যাসিনো খেলার অভিযোগে আটক করে মাইক্রোবাসে উঠায়। এরপর শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর নামক স্থানে মাইক্রোবাস থামিয়ে তাদের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দরকষাকষি করে নগদ দুই লাখ টাকা এবং বিকাশ ও নগদ অ্যাপস এর মাধ্যমে আরও এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। বগুড়া জেলা পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরে শেরপুর ও শাজাহানপুর থানা এলাকায় তাদের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি আটক করার চেষ্টা করেন। দুই থানা পুলিশ মাইক্রোবাসটি আটক করতে না পেরে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগীতায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়কে শাজাহানপুর থানার বীরগ্রাম এলাকায় মাইক্রোবাসটি আটক করা হয়। মাইক্রোবাসে থাকা পাঁচজন নিজেদেরকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্য পরিচয় দেন। পরে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তারা কাউকে না জানিয়ে বগুড়ায় অসৎ উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। পরে তাদেরকে আটক করা হয় এবং মুক্তিপণ হিসেবে নেওয়া নগদ দুই লাখ টাকা ও একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়।

তিনি আরও জানান, ধুনট উপজেলার বাসিন্দা ওয়াহাব নামে একজন কনস্টেবল রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত। তিনি ছুটি নিয়ে দুই দিন আগে বাড়িতে আসেন। তার তথ্য মতেই রাজশাহী থেকে আটক পাঁচজন ধুনটে আসেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধনে জানা গেছে।

পুলিশ সুপার বলেন, আটক ব্যক্তিদের হাইওয়ে পুলিশ ধুনট থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের নামে ভুক্তভোগীদের একজন বাদী হয়ে অপহরণ মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।