মতিউর রহমান মুসা, নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কাথম-চাকলমা মৌজায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতায় তীব্র সেচসংকট দেখা দিয়েছে। সেচের পানির অভাবে খালের পাড় ঘেঁষে থাকা প্রায় ৮০.২৭ হেক্টর (প্রায় ৬০০ বিঘা) জমির রোপণকৃত ধানের মাঠ শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।
পানির অভাবে কচি ধানগাছ হলুদ বর্ণ ধারণ করে শুকিয়ে নষ্ট হতে বসায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় শত শত কৃষক। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কৃত্রিম সেচের ব্যবস্থা না করা হলে পুরো এলাকার ধান আবাদ ভেস্তে যাবে এবং শত শত কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি দপ্তরের সঠিক নজরদারি ও দায়িত্বশীল ভূমিকা না থাকায় কাথম গ্রামের এক সেচপাম্প মালিক এবং অসাধু চক্র সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করে রেখেছে।
ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কাথম মৌজায় একটি গভীর নলকূপ পুরোপুরি সচল থাকা সত্ত্বেও পাম্প পরিচালক ব্যক্তিগত অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় জমিতে পানি সরবরাহ করছেন না। বারবার আশ্বাস দিয়েও কৃষকদের জমিতে পানি না দিয়ে ঘোরানো হচ্ছে। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে কৃষকদের অভিযোগ।
চাকলমা গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক মো. রাঙ্গা প্রামানিক, জামিল হোসেন, মানিক মিয়া, আমিনুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কৃষি অফিসের লোকজনের গাফিলতি ও তদারকির অভাবে সেচপাম্প মালিক আমাদের জিম্মি করে রেখেছে। সচল গভীর নলকূপ থাকা সত্ত্বেও আমাদের জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে না। সময়মতো সেচ না পেয়ে চোখের সামনে মাঠের ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনও মহোদয় যদি দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে সেচের ব্যবস্থা না করেন, তবে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। চাকলমা গ্রামের অনেক কৃষক পথে বসে যাবে।
এদিকে আরও অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধার কথা চিন্তা করে সরকারি পুনঃখনন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় খালে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু কৃষি দপ্তরের নজরদারির সুযোগে কোনো এক অসাধু মাছ শিকারি কালভার্টের নিচের বাঁধের প্রায় তিন ফুট অংশ কেটে পানি বের করে দিয়েছে। ফলে খালে পানি আটকে না থাকায় কৃষকেরা স্যালো মেশিন বসিয়েও সেচ দিতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা অবিলম্বে বাঁধটি সংস্কার করে খালে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা এবং অসাধু পাম্প মালিকের সিন্ডিকেট ভেঙে সেচ চালুর আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে কৃষকের ঘামে ভেজা ফসল এভাবে নষ্ট হওয়াকে গ্রামীণ অর্থনীতি ধ্বংসের বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার হস্তক্ষেপ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন জানান, আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানতে চাইলে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার মো: গাজিউল হক এই প্রতিবেদককে জানান, তথ্যটি জানার পর আমরা দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি অফিসারকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 







