ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চেতনানাশক দিয়ে ধর্ষণের পর জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাওয়াতেন মাদ্রাসাশিক্ষক

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা গ্রামে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত লোকজন মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন।

‎অভিযুক্ত আবু ইউসুফ পাবনা সদরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি ওই মহিলা মাদরাসার পরিচালক ছিলেন। মাদ্রাসাটিতে দেড়শ মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পদ্মা মাঠসংলগ্ন নুরে মদিনা মহিলা কওমি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। ফজরের আজানের আগে এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হয়। এ সময় শিক্ষক ইউসুফ তাকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওই ছাত্রীর। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

‎ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ জন্য চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হতো বলেও দাবি করে সে। ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো। মাদ্রাসার অন্য কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করে ওই ছাত্রী। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে ওই ছাত্রী।

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর এবং আগুন দেয়। ‎এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।‎পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

চেতনানাশক দিয়ে ধর্ষণের পর জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাওয়াতেন মাদ্রাসাশিক্ষক

PhotoCard Icon
Create PhotoCard

চেতনানাশক দিয়ে ধর্ষণের পর জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাওয়াতেন মাদ্রাসাশিক্ষক

আপডেটের সময় : ১১:০৭:৩৪ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা গ্রামে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত লোকজন মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন।

‎অভিযুক্ত আবু ইউসুফ পাবনা সদরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি ওই মহিলা মাদরাসার পরিচালক ছিলেন। মাদ্রাসাটিতে দেড়শ মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে পদ্মা মাঠসংলগ্ন নুরে মদিনা মহিলা কওমি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। ফজরের আজানের আগে এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হয়। এ সময় শিক্ষক ইউসুফ তাকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওই ছাত্রীর। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

‎ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ জন্য চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হতো বলেও দাবি করে সে। ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো। মাদ্রাসার অন্য কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করে ওই ছাত্রী। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে ওই ছাত্রী।

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর এবং আগুন দেয়। ‎এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।‎পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।