ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও বাবাকে গলায় ফাঁ.স দিয়ে হ.ত্যা

বগুড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে সৌদি আরব প্রবাসীর বাবা ও স্ত্রীকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাতে বগুড়ার জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীমণ্ডপ গ্রামে ওই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহতরা হলেন- লক্ষ্মীমণ্ডপ গ্রামের মৃত পানা উল্লাহা প্রামাণিকের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আফতাব হোসেন (৭০) এবং সৌদি আরব প্রবাসী শাহজাহানের স্ত্রী মোছাঃ রিভা (২৮)।

জোড়া হত্যাকাণ্ডের খবরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার ভোর থেকে ওই বাড়িতে এবং আশ-পাশে শত শত মানুষ ভিড় করছে। স্বজন এবং পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেনি।

স্বজনরা জানান, অবসপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আফতাব হোসেনের দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে। দুই ছেলের মধ্যে বড় শাহজাহান বেশ কয়েক বছর আগে সৌদি আরব চলে যান। তার স্ত্রী রিভা এক ছেলে নীরব এবং কন্যা মালিহাকে নিয়ে শ্বশুড় বাড়িতেই বসবাস করতেন। আফতাব হোসেনের ছোট ছেলে ঢাকায় বসবাস করেন।

প্রতিদিনকার মত আফতব হোসেন মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে তার ঘরে এবং পুত্রবধূ তার ৫ বছর বয়সী মেয়ে মালিহাকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। বুধবার সকালে মালিহা তার পাশে হাত বাঁধা এবং গলায় ফাঁস অবস্থায় তার মাকে পড়ে থাকতে দেখে পাশের বাড়ির লোকজনকে খবর দেন। পরে এলাকাবাসী এসে ঘরের বাইরে রিভার শ্বশুড় আফতাব হোসেনকেও হাত বাঁধা ও গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দু’জনকে মৃত দেখার পর তারা পুলিশকে খবর দেন।

বুধবার সকালে গৃহবধূ রিভার ঘরে ঢুকে দেখা গেছে, ওই ঘরের আসবাবপত্রগুলো তছনছ করা হয়েছে। স্বজনরা জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কোন কারণ তাৎক্ষণিকভাবে তারা জানাতে পারেননি। অবশ্য স্বজনদের কেউ কেউ বলছেন, আফতাব হোসেনের সঙ্গে জমি-জমা নিয়ে এলাকাবাসীর বিরোধ চলে আসছিল।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( অপরাধ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ব শত্রুতা, পারিবারিক বিরোধ কিংবা চুরির উদ্দেশ্যে হামলার সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে গণমাধ্যমকর্মীরা হয়রানি হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বগুড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও বাবাকে গলায় ফাঁ.স দিয়ে হ.ত্যা

আপডেটের সময় : ০২:২৯:১৮ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

বগুড়ায় দুর্বৃত্তদের হাতে সৌদি আরব প্রবাসীর বাবা ও স্ত্রীকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাতে বগুড়ার জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীমণ্ডপ গ্রামে ওই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহতরা হলেন- লক্ষ্মীমণ্ডপ গ্রামের মৃত পানা উল্লাহা প্রামাণিকের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আফতাব হোসেন (৭০) এবং সৌদি আরব প্রবাসী শাহজাহানের স্ত্রী মোছাঃ রিভা (২৮)।

জোড়া হত্যাকাণ্ডের খবরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার ভোর থেকে ওই বাড়িতে এবং আশ-পাশে শত শত মানুষ ভিড় করছে। স্বজন এবং পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারেনি।

স্বজনরা জানান, অবসপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আফতাব হোসেনের দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে। দুই ছেলের মধ্যে বড় শাহজাহান বেশ কয়েক বছর আগে সৌদি আরব চলে যান। তার স্ত্রী রিভা এক ছেলে নীরব এবং কন্যা মালিহাকে নিয়ে শ্বশুড় বাড়িতেই বসবাস করতেন। আফতাব হোসেনের ছোট ছেলে ঢাকায় বসবাস করেন।

প্রতিদিনকার মত আফতব হোসেন মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে তার ঘরে এবং পুত্রবধূ তার ৫ বছর বয়সী মেয়ে মালিহাকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। বুধবার সকালে মালিহা তার পাশে হাত বাঁধা এবং গলায় ফাঁস অবস্থায় তার মাকে পড়ে থাকতে দেখে পাশের বাড়ির লোকজনকে খবর দেন। পরে এলাকাবাসী এসে ঘরের বাইরে রিভার শ্বশুড় আফতাব হোসেনকেও হাত বাঁধা ও গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দু’জনকে মৃত দেখার পর তারা পুলিশকে খবর দেন।

বুধবার সকালে গৃহবধূ রিভার ঘরে ঢুকে দেখা গেছে, ওই ঘরের আসবাবপত্রগুলো তছনছ করা হয়েছে। স্বজনরা জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কোন কারণ তাৎক্ষণিকভাবে তারা জানাতে পারেননি। অবশ্য স্বজনদের কেউ কেউ বলছেন, আফতাব হোসেনের সঙ্গে জমি-জমা নিয়ে এলাকাবাসীর বিরোধ চলে আসছিল।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( অপরাধ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ব শত্রুতা, পারিবারিক বিরোধ কিংবা চুরির উদ্দেশ্যে হামলার সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।