নওগাঁর রাণীনগরের নিরু মন্ডল, বিনা পয়সায় গেটম্যানের দায়িত্ব পালনে চলছে না সংসার

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা গোনা ইউনিয়নের অনেক গ্রাম রেললাইনের পূর্ব পাশে অবস্থিত যার ফলে ইউনিয়ন পরিষদে নানা প্রয়োজনে যেতে উপজেলার বড়বড়িয়া, বিজয়কান্দি, আকনাসহ দশটির বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের রেললাইনে একটি গেট না থাকার কারণে মাত্র ৪কিমি দূরত্বে অবস্থিত গোনা ইউনিয়ন পরিষদে যেতে ১৫কিমি রাস্তা ঘুরে যেতে হয়,এমন ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে রেল কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি সাপেক্ষে বড়বড়িয়া গ্রামের বাসিন্দারা নিজ দায়িত্বে বড়বড়িয়া-গোনা পাঁকা রাস্তার রেললেইনের নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন স্থানে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী রেলগেট নির্মাণ করেন। সেই গেটে বিনা পয়সায় গেটম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন বড়বড়িয়া গ্রামের মৃত মকবুল মন্ডলের ছেলে নিরু মন্ডল।

প্রতিদিন যে’কটি ভ্যান, সাইকেল, মোটরসাইকেল কিংবা অন্যান্য যানবাহন পারাপার হওয়ার সময় যে টাকা দেয় আর নিজের অর্থায়নের ছোট্ট দোকানে যে’কটি টাকা বিক্রি হয় সেই দিয়ে কোনমতে চলছে নিরুর পরিবার। নিরু দিন-রাত এমন মহৎ দায়িত্ব পালন করলেও স্থানীয়সহ কারো নজর নেই তার প্রতি।

এমতাবস্থায় সন্তানদের পড়ালেখার খরচসহ নিরু তার পরিবার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

ইতিপূর্বে কোন গেটম্যান না থাকার কারণে মোটরসাইকেল নিয়ে রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে একাধিকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে।

এমন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করলেও নিরু এখন পর্যন্ত সরকারের কোন সুযোগ-সুবিধাও পান না। তাই স্থানীয় বাসিন্দা, স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা না পেলে আর বেশিদিন তার পক্ষে এমন দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন গেটম্যান নিরু মন্ডল।

তাই দ্রুতই গ্রামবাসীসহ চলাচলকারী সকল পথচারীদের নিরুর পাশে দাঁড়ানোর বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

সান্তাহার রেলওয়ে বিভাগের উর্দ্ধতন উপ-সহকারি প্রকৌশলী আব্দুর রহমান মুঠোফোনে জানান রাণীনগরের বড়বড়িয়া রেলগেট অনুমোদিত নয়। তাই ওখানে দায়িত্ব পালনকারীকে নিজ দায়িত্বে সব কিছু করতে হবে,ওই রেলগেটসহ আরো কয়েকটি রেলগেটের অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদিত হলে পরবর্তিতে আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *