সচ্ছলতা ফেরাতে গিয়েছিলেন প্রবাসে, লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলেন নন্দীগ্রামের শফিক  

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর জন্য সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন নন্দীগ্রামের শফিক উদ্দিন। সুখের আশায় বুক বেঁধেছিলেন শফিক উদ্দিনের পরিবার। ভালোই চলছিল শফিক উদ্দিনের সাজানো ছোট্ট সংসার। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর জীবনে কাল হয়ে আসে। তেলবাহী লড়ি দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার সৌদি প্রবাসী শফিক উদ্দিন। শফিক উদ্দিনের মৃত্যুতে ওই এলাকায় নেমে এসেছে চোখের ছায়া। আয় রোজগারের একমাত্র মাধ্যম শফিক উদ্দিনকে হারিয়ে আহাজারি আর কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার ও প্রতিবেশীরা।
জানা যায়, নিহত শফিক উদ্দিন উপজেলার ১নং;বুড়ইল ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে প্রায় ১৫ বছর আগে তিনি পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে একটি তেলবাহী লড়ি চালাতেন তিনি। বড় ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) ভোরে আমরা তার মৃত্যর খবর পাই। গত বুধবার রাতে সৌদি আরবের জেদ্দার আল-বালাদ শহর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তেলবাহী লড়ি দূর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত প্রবাসী শফিক উদ্দিনের মেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এক বছর আগে বাবা দেশে এসেছিল, আমাদের ভাল রাখতে বাবা আবারও বিদেশে গেল, অথচ আজ তাকে কফিনে করে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্ত্রী বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, ছেলে বাবার ছবি বুকে জড়িয়ে কাঁদছে।
নিহতের বাড়িতে সকাল থেকে ভিড় জমাচ্ছেন আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী। অনেকেই চোখের জল মুছতে মুছতে বলছেন, শফি খুবই ভালো ছেলে ছিল । এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া খুব কঠিন। শফিকের স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে সন্তানদের ভালো শিক্ষায় গড়ে তোলা ও একটি ছোট ব্যবসা শুরু করা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন শুধুই কফিনবন্দি স্মৃতি। ১নং বুড়ইল  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শফিক উদ্দিন অনেক ভাল ছেলে ছিল। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *