নন্দীগ্রামে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের আগুনে পুড়লো বসতঘর: চার লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি 

বগুড়ার নন্দীগ্রামে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের আগুনে ১টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রবিবার (২২ জুন) সকাল ৬টার  দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের  শিমলা এলাকার দলিল লেখক মৃত জুলফিকার আলী তানসেনের বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা নন্দীগ্রাম ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে আগুন যতক্ষণে নিয়ন্ত্রণে আনেন ততক্ষণে ওই পরিবারের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ওই পরিবারের চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়। মৃত জুলফিকার আলী তানসেনের মেয়ে তামান্না আক্তার জানান, আমার বাবা নন্দীগ্রাম সাবরেজিস্টার অফিসের দলিল লেখক ছিলেন, পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল আমার বাবা, বাবার কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে  অনেক ব্যয়বহুল খরচ করে ও বাবাকে বাঁচাতে পারিনি। সংসার চালানোর তাগিদে  আমার বড় ভাই ঢাকাতে চাকুরি করে। বাড়িতে কেউ থাকতো না ঈদের আগেই বাড়িতে আসি। বাড়িতে ঈদ করে গত দুদিন আগে ভাগবজর খালাদের বাড়িতে বেড়াতে যাই, কিন্তু হঠাৎ রবিবার সকালে পাশের বাড়ির আন্টি আগুন লাগার খবর দেয়। বাসায় এসে দেখি একটি ঘর সহ ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। বাবার রেখে যাওয়া কাগজপত্র জমা জমির দলিল, টিভি, ফ্রিজ, আলমারি, শোকেস, ড্রেসিং টেবিল, সোফা, দামি দামি শাড়ি, আলমারিতে রাখা টাকা, স্বর্ণালংকার সহ সমস্ত আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরো বলেন, অনেক কষ্ট করে আমার বাবা এসব আসবাবপত্র ক্রয় করেছিলেন। বাবা চলে যাওয়ার পর সেসব জিনিসপত্র বাবার রেখে যাওয়া স্মৃতি হিসেবে ছিল। যা নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে মাথা গোজার ঠাঁই টুকুও আমাদের নেই।
নন্দীগ্রাম ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মোঃ কহির উদ্দিন দেওয়ান জানান, রবিবার সকাল ছয়টার  দিকে আমরা আগুনের খবর পাই। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *