আবু সাঈদ দুই পা হারিয়েও একুশ বছর ধরে টেনে চলেছেন সংসারের ঘানি 

নাম আবু সাঈদ, বাড়ি বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার ৩নং ভাটরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পন্ডিতপুকুর এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে আবু সাঈদ। গত ২৯ বছর ধরে বসবাস করতেন অন্যের ভাড়া বাড়িতে। জীবিকা নির্বাহের জন্য আবু সাঈদ করতেন বাসের ড্রাইভারি। ভাড়া বাড়িতে থেকে  স্ত্রী এবং এক ছেলেকে নিয়ে বেশ চলছিল আবু সাঈদের ছোট্ট সাজানো সংসার

২০০২ সালে একদিন হঠাৎ আচমকা ঝড় এসে ভেঙে যায় আবু সাঈদ এর সাজানো সংসার। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কমলপুরে বাস চালাতে গিয়ে ট্রাকের সাথে এক্সিডেন্টে দুই-পা হারিয়ে থেমে যায় আবু সাঈদের জীবন পথ। আবু সাঈদের চিকিৎসার জন্য আবু সাঈদ সহ তার পরিবারকে নামতে হয় পথে যেতে হয় অন্যের দ্বারে দ্বারে। আবু সাঈদের থাকার শেষ সম্বল টুকু বিক্রি করে এমনকি সহযোগিতার সর্বমোট ১৪ লক্ষ টাকা ব্যয় করেও সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেনি আবু সাঈদ। কাটা দু-পা নিয়েই অনেক কষ্টে ধার দেনা করে পরিবারে মুখে দু-বেলা দু-মুঠো খাবার তুলে দিতে আবারো জিবন যুদ্ধে নেমে  পড়ে আবু সাঈদ। ৩হাজার টাকা মাসে ছোট্ট একটি খাবার হোটেল ভারায় নেয় সাঈদ। সেই হোটেলে গিয়ে দেখা মেলে আবু সাঈদ সহ তার পরিবারের দুঃখের চিত্র। মা থালা বাসন পরিস্কার করছেন, ছেলে খাবার পরিবেশন করছেন, সাঈদ কাটা দু-পা নিয়ে অন্য কাজ করছেন। সংবাদকর্মী খবর শুনে ভেঙে পড়েন কান্নাই কথা হয় আবু সাঈদের সাথে। খুলে বলেন তার জীবন কাহিনী। রোড এক্সিডেন্টে দুই-পা হারিয়েছে তবুও থেমে থাকেনি আবু সাঈদ ও তার পরিবার। নিজের অসুস্থ জীবন এক সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে  দীর্ঘ ২১ বছর ধরে একটু একটু করে টাকা জমিয়ে কোন মত ৩শতক জায়গা কিনে সেখানে টিনের ছাউনি তুলে জিবন যাপন করছে সাঈদের পরিবার। সাঈদের অসহায় এই জিবনে শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া সরকারী আর কোন আর্থীক সহায়তা মেলেনি। ছোট্ট এই ভারার হোটেল দিয়েই কোনমত চলছে আবু সাঈদের সংসার। সমাজের বিত্তবানদের নিকট ও সরকারি সহায়তা পাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান অসহায় সাঈদের পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *